ফেব্রুয়ারিতেই আসতে পারে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি, জানাল বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য এনটিআরসির ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই প্রকাশ হতে পারে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) জানিয়েছে, সব প্রস্তুতি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শেষ হলে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া সম্ভব হবে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানান এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সপ্তম বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির সুপারিশ কার্যক্রম শুরু করা হবে। সুপারিশ প্রকাশের পরপরই ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালু হবে।
এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান জানান, ই-রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাত দিন সময় দেওয়া হবে। এরপর অনলাইনে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে, যেখানে আরও সাত দিন সময় থাকবে। শূন্য পদের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। তার ভাষায়, “সব প্রক্রিয়া ঠিকভাবে শেষ হলে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বিজ্ঞপ্তি দিতে পারব বলে আশা করছি।”
এর আগে সপ্তম বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীর সংখ্যা নিয়ে নানা বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বিষয়টি পরিষ্কার করতে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান জানান, এ বিজ্ঞপ্তিতে মোট ১৮ হাজার ৩৯৯ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। তবে আবেদনকারীদের মধ্যে অনেক ইনডেক্সধারী শিক্ষক থাকায় তাদের রোল ব্লক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও যাদের ইনডেক্স না থাকায় আবেদন করেছিলেন, পরবর্তীতে তাদের এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার প্রার্থীর রোল ব্লক হওয়ায় প্রকৃত আবেদনকারীর সংখ্যা ১৬ হাজারের কিছু বেশি হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, সপ্তম বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির আওতায় ৬৭ হাজারের বেশি শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন তুলনামূলক কম হওয়ায় ১২ হাজারের বেশি প্রার্থী সুপারিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএর যৌথ সভা আহ্বান করায় সুপারিশ প্রকাশ কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে।
সূত্র জানায়, মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএ কর্মকর্তাদের বৈঠকে সুপারিশ প্রকাশের সময়সূচি চূড়ান্ত হতে পারে। এর আগে রোববার সুপারিশ প্রকাশের কথা থাকলেও তা হয়নি।
উল্লেখ্য, সপ্তম বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন গ্রহণ শুরু হয় ১০ জানুয়ারি এবং শেষ হয় ১৭ জানুয়ারি রাতে। আবেদন ফি জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ১৮ জানুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত। এ বিজ্ঞপ্তিতে স্কুল ও কলেজ, মাদ্রাসা এবং কারিগরি প্রতিষ্ঠানে মোট ৬৭ হাজার ২০৮টি শূন্য পদ রয়েছে।
সব মিলিয়ে, সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তির সুপারিশ এবং শূন্য পদের যাচাই শেষ হলেই শিক্ষক নিবন্ধনের ১৯তম বিজ্ঞপ্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
