শিক্ষক শিক্ষার্থী কর্মচারীর জন্য অনুদান শুরু, কীভাবে আবেদন করবেন
দেশের শিক্ষক, শিক্ষার্থী আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য অনুদানের আবেদন শুরু হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ রাখতেই সব আবেদন নেওয়া হচ্ছে (https://www.mygov.bd) ওয়েবসাইটে।
আবেদন করতে হলে প্রতিষ্ঠান প্রধান বা রেজিস্ট্রারকে আগে (https://www.mygov.bd) ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের সময় যে মোবাইল নম্বর দেওয়া হবে, সেটি ব্যানবেইসের সর্বশেষ শিক্ষা জরিপে থাকা নম্বরের সঙ্গে মিলতে হবে। রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেলে EIIN নম্বর দিয়ে প্রোফাইল যাচাই করতে হবে। তারপর হোমপেজে গিয়ে অনুদানের অপশন বেছে আবেদন জমা দেওয়া যাবে।
এবারের অনুদানে কয়েকটি আলাদা ক্যাটাগরি রাখা হয়েছে। বেসরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের ভবন মেরামত, সংস্কার, আসবাবপত্র কেনা, পাঠাগার স্থাপন বা খেলাধুলার সরঞ্জাম কেনার মতো কাজেও অনুদান পাওয়া যাবে। যে সব প্রতিষ্ঠান অনগ্রসর এলাকায়, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
শিক্ষক আর কর্মচারীরা নিজেরা আবেদন করতে পারবেন গুরুতর রোগ বা হঠাৎ দুর্ঘটনার জন্য। এখানে জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রতিষ্ঠান প্রধানের দাপ্তরিক প্রত্যয়নপত্র এবং সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সংক্রান্ত সনদ যুক্ত করতে হবে। এসব কাগজ না থাকলে আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
শিক্ষার্থীদের অনুদান আলাদা। সরকারি আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রীরা দুরারোগ্য ব্যাধি, দুর্ঘটনা বা পড়াশোনার খরচের জন্য আবেদন করতে পারবে। দুস্থ, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, গরিব, মেধাবী বা অনগ্রসর এলাকার শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পাবে। স্কুল কলেজ পর্যায়ের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধনের কপি আর প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিভাগীয় প্রধানের প্রত্যয়নপত্র ও জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে হবে।
ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিতে হবে নির্ভুল ভাবে। কারণ প্রতিষ্ঠানের অনুদান সরাসরি ব্যাংকে পাঠানো হবে। MICR চেক বইয়ের একটি পাতার স্ক্যান কপিও দিতে হবে। শিক্ষক আর শিক্ষার্থীদের অনুদান মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেওয়া হবে, তাই তাদের ব্যক্তিগত KYC আপডেট করা নম্বর দিতে হবে। এজেন্ট বা মার্চেন্ট নম্বর চলবে না।
এ সুবিধা শিক্ষক আর কর্মচারীরা জীবনে একবারই পাবেন। আগে পেলে আর আবেদন করা যাবে না। শিক্ষার্থীরা তিন বছর অন্তর আবেদন করতে পারবে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে সমাজসেবা অফিসের সনদ অবশ্যই দিতে হবে। তৃতীয় লিঙ্গ হলে সরকারি হাসপাতালের সনদ চাই।
কোনো আবেদন অসম্পূর্ণ হলে সেটি সরাসরি বাতিল হবে। আর নিয়ম ভাঙলে বা ভুল তথ্য দিলে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারবে।
