৫০তম বিসিএস: নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা, প্রার্থীদের প্রস্তুতি শেষ মুহূর্তে
২০২৬ সালের প্রথম ও ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা এখন আর মাত্র কয়েক দিন দূরে। ৩০ জানুয়ারি এই পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছে। যদিও কিছু চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষা স্থগিত করার দাবি তুলেছিলেন, তবে পিএসসি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে পরীক্ষা সময়েই হবে এবং স্থগিত করার কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে কিছু প্রার্থীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৮ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হলেও পিএসসির পক্ষ থেকে পরিষ্কার বার্তা এসেছে। পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানিয়েছেন, “বিসিএস পরীক্ষা নির্ধারিত তারিখেই হবে। কমিশন পরীক্ষার সুষ্ঠু আয়োজনের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ করেছে।”
পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে পরিচালনার জন্য পিএসসি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। ইতোমধ্যে ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরের কেন্দ্র পরিদর্শক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হয়েছে। শীঘ্রই কেন্দ্রগুলোর পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস বা অন্য কোনো বিশৃঙ্খলা রোধে কঠোর নজরদারি থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পিএসসি।
পিএসসি ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে ‘ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার’ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে চায়। কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম বলেন, “এই বিসিএসকে আমরা মাইলফলক হিসেবে দেখছি। বিজ্ঞপ্তি থেকে চূড়ান্ত ফলাফল পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ১২ মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য আমরা ধরে রেখেছি। সেশনজটমুক্ত বিসিএস নিশ্চিত করা আমাদের মূল লক্ষ্য।”
এবারের বিসিএসে মোট আবেদন পড়েছে ২ লাখ ৯০ হাজার ৯৫১টি, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় কিছুটা কম। ৪৭তম বিসিএসে আবেদন সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৪৭টি। ৫০তম বিসিএসে মোট ২ হাজার ১৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫টি ক্যাডার পদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৫০ জন স্বাস্থ্য ক্যাডারে, প্রশাসনে ২০০ এবং পুলিশে ১১৭ জন নিয়োগ পাবেন।
এখন প্রার্থীরা তাদের প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে। অনেকেই শেষ মুহূর্তের রিভিশন, মডেল টেস্ট দেওয়া এবং মানসিক প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রার্থীদের জন্য শ্রুতলেখক ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করা হয়েছে। পিএসসির রোডম্যাপ অনুযায়ী, প্রিলিমিনারি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
