প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফলাফল নিয়ে নতুন আপডেট, শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ কবে
চলতি সময়ে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফলাফল নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা গুঞ্জন, ভুয়া তথ্য আর অপপ্রচার ঘুরে বেড়ালেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর স্পষ্ট করে বলেছে—এসবের কোনো ভিত্তি নেই।
অধিদপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষার খাতা দেখা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই ফল প্রকাশ করা হবে। ফলে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক একে সামছুল আহসান জানান, এখনো নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে ফল প্রকাশ সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা আসেনি। তবে তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যেই প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফলাফল প্রকাশের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
২০ জানুয়ারির মধ্যে ফল প্রকাশ হবে—এমন আলোচনা নিয়েও তিনি পরিষ্কার বক্তব্য দেন। তার ভাষায়, এখনো নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঠিক হয়নি। তাই নির্দিষ্ট দিন বলে ফল প্রকাশের খবর নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফল বাতিল বা পরীক্ষা বাতিলের কোনো সিদ্ধান্ত নেই—এ ধরনের তথ্য সম্পূর্ণ গুজব।
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি ৬১ জেলায় এই লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্যপদের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশ নেন ১০ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি প্রার্থী। পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন ছড়ায় এবং কিছু প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও সামনে আসে।
এ ছাড়া ‘ডিভাইস পার্টি’ নামে একটি চক্রের বিরুদ্ধে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে নকলের সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এসব অনিয়মের কারণে দেশজুড়ে ২০৭ জন পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এর মধ্যে গাইবান্ধায় ৫৩ জন, নওগাঁয় ১৮ জন, দিনাজপুরে ১৮ জন, কুড়িগ্রামে ১৬ জন এবং রংপুরে ২ জন রয়েছেন।
প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতির অভিযোগে কিছু পরীক্ষার্থী আন্দোলনে নামলেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রশ্নফাঁসের কোনো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যারা অনিয়মের চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই কারণে পুরো পরীক্ষা বা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফলাফল বাতিল করার কোনো সুযোগ নেই।
সব মিলিয়ে অধিদপ্তরের বার্তা পরিষ্কার—পরীক্ষা ও ফলাফল প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবেই এগোচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের গুজবে কান না দিয়ে ধৈর্য ধরে ফল প্রকাশের অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।
