১৩ হাজার ৫৫৯ পদে প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ: বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) প্রথমবারের মতো স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান পর্যায়ের ১৩ হাজার ৫৫৯টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করছে। অনলাইন আবেদন নেওয়া হবে ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
বৃহস্পতিবার রাতে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম নিশ্চিত করেন যে, এত বড় পরিসরে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি এই প্রথম প্রকাশ হচ্ছে। এখন থেকে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপার নিয়োগ তদারকি করবে এনটিআরসিএ।
তথ্য অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান ও সহকারী প্রধান মিলিয়ে শূন্যপদ রয়েছে ১৩,৫৫৯টি। এর মধ্যে রয়েছে— স্নাতক কলেজ, উচ্চমাধ্যমিক কলেজ, মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
দীর্ঘদিন ধরে এই পদগুলো পরিচালনা পর্ষদ বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হলেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠায় এবার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এনটিআরসিএকে।
প্রস্ন হল পরীক্ষা পদ্ধতি কেমন হবে? পরীক্ষায় মোট নম্বর থাকবে ১০০। এর মধ্যে লিখিত (MCQ) পরীক্ষার জন্য বরাদ্দ ৮০ নম্বর, মৌখিক পরীক্ষায় থাকবে ১২ নম্বর এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের ওপর মূল্যায়ন করা হবে ৮ নম্বর।
লিখিত পরীক্ষায় ৮০টি এমসিকিউ থাকবে, প্রতিটি ভুলে কর্তন হবে ০.২৫ নম্বর। বাংলা, ইংরেজি, আইসিটি, সাধারণ জ্ঞান, গণিত, মানসিক দক্ষতা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা—এসব বিষয় থেকে প্রশ্ন আসবে। প্রতিষ্ঠানভেদে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নও থাকতে পারে। প্রতি ধাপে উত্তীর্ণ হতে হবে ৪০ শতাংশ নম্বর পেয়ে।
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে শূন্যপদের তিন গুণ প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেবেন। এরপর লিখিত + মৌখিক + শিক্ষাগত যোগ্যতার নম্বর মিলিয়ে চূড়ান্ত মেধাতালিকা তৈরি করা হবে।
চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা নিজেদের সুবিধামতো ৫টি শূন্যপদের বিপরীতে পছন্দক্রম দিতে পারবেন। প্রার্থীর মেধা ও পছন্দ অনুযায়ী এনটিআরসিএ নিয়োগের সুপারিশ করবে। তবে ফৌজদারি বা বিভাগীয় মামলায় দণ্ডিত কেউ আবেদন করতে পারবেন না।
২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ এমপিওভুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করে এলেও প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিয়োগ তাদের হাতে ছিল না। এবার সেই ক্ষমতা এনটিআরসিএর অধীনে আসায় নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আবেদন গ্রহণ শুরু হবে ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এবং চলবে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। পরীক্ষার তারিখ এখনো নির্ধারণ হয়নি; জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের পর সময়ে তা প্রকাশ করা হবে।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবচেয়ে বড় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বড় পরিবর্তন আনবে প্রশাসনিক কাঠামোতে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
.webp)